April 19, 2026, 10:07 pm

গাইবান্ধায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিনিধি,গাইবান্ধা ঃফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ স¤পাদক এইচ এম আশিকুর রহমান রকিকে (২৫) গত রোববার রাত সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধা পৌরসভার পূর্বপাড়ার হালিম বিড়ি ফ্যাক্টরী সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত রকি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মধ্য কঞ্চিপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মৃত ছইদার রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আশিকুর রহমান রকি রাতে শহরের পুরাতন বাজার এলাকার ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে সোহেল ও প্লাবনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। এসময় পথিমধ্যে শহরের পূর্বপাড়ার হালিম বিড়ি ফ্যাক্টরী সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে পৌঁছলে পূর্ব থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা পূর্বপাড়ার নবাব আলীর ছেলে কাঞ্চন ও তার সহযোগীরা রকির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় অপর এক মটর সাইকেলে রকির সঙ্গে আসা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আব্দুল মমিন মাস্টার গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রকির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রকিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নিহত রকির বড় ভাই আতিকুর রহমান সরকার সোমবার বাদি হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় কাঞ্চনকে প্রধান আসামি এবং ৩ জনের নামসহ আরও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আসিফ সরকার জানান, গত দুই মাস আগে পূর্বপাড়া এলাকার নবাব আলীর ছেলে কাঞ্চনের সাথে রকির মোটরসাইকেলের হর্ণ বাজানো নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে উভয়ের মধ্যে শত্রæতার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে কাঞ্চন তার দলবলসহ রকির উপর হামলা চালায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অতিসত্বর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, হত্যাকারী কাঞ্চন ও তার সহযোগীদের দ্রæত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তোহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত কারণসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা